কাশ্মীর ইস্যুতে রাশিয়ার আহ্বানে চমকে গেল ভারত

কাশ্মীর সংকট সমাধানে জাতিসংঘের চার্টার ও রেজুলেশন অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সংকটটির সমাধান হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে দেশটি।ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের পর শুক্রবার চীনের আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক অনানুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে।নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ আশা ব্যক্ত করে রাশিয়া। খবর ডেকান হেরাল্ডেরওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রুশ কূটনীতিক দিমিত্রি পলিয়ানস্কি।বৈঠক শেষে

এ বিষয়ে একটি টুইটে দিমিত্রি পলিয়ানস্কি লেখেন, রাশিয়া সব সময়েই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পক্ষে জোর দিয়ে আসছে। আমরা আশা করি কাশ্মীর বিরোধ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করাই শ্রেয়।তিনি ষ্পষ্ট করে বলেন, ওই সমাধানের ভিত্তিটি হবে ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণা এবং জাতিসংঘের চার্টার, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন এবং ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ওপর।এভাবে কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণ করণে পাকিস্তানকে একরকম সহায়তা করল রাশিয়া।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের পর কাশ্মীর ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো বৈঠক করলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে অংশ নেয়নি ভারত ও পাকিস্তানের কেউ।এদিকে কাশ্মীর সংকট নিয়ে রাশিয়ার এমন আহ্বান ও বক্তব্যে অবাক হয়েছে মোদি সরকার। এর কারণ ভারতের পুরনো বন্ধু রাশিয়া। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বেশ ভালই জানা রাশিয়ার।তারপরও কাশ্মীর সংকট সমাধানে জাতিসংঘ চার্টার ও রেজুলেশন অনুসারে পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করতে রাশিয়া আশা ব্যক্ত করায় তা ভারতকে বিস্মিত করেছে।উল্লেখ্য, কাশ্মীর ইস্যুটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে

দাবি জানিয়ে আসছে ভারত।এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর বিরোধ উত্থাপনের ক্ষেত্রে সিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণাকে হাতিয়ার করে পাকিস্তানকে ঠেকিয়ে আসছে। আর এ সবই জানা রাশিয়ার।এর আগে কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের তোলা প্রস্তাবে বরাবরই ভেটো দিয়ে এসেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন।যে কারণে কখনওই এই ইস্যুতে কোনো রেজুলেশন পাস হয়নি জাতিসংঘে। কিন্তু এবার সে পথে না গিয়ে ভিন্নমত দিলো

রাশিয়া।ভারতের ধারণা ছিল, কাশ্মীর ইস্যুতে বরাবরের মতোই অবস্থানের অনড় থাকবে রাশিয়া। ভারতের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানাবে তারা।অবশ্য কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে সমর্থন না দেয়ার ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছিল রাশিয়া।সম্প্রতি পাকিস্তানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে আলোচনায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ সমাধানে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ের চেয়ে কোনও বিকল্প নেই।

Sharing is caring!